Header Ads Widget

Responsive Advertisement

একনেকে পাশ হওয়া 'পদ্মা ব্যারাজ' নাকি "গঙ্গা ব্যারাজ" সতর্কতা প্রয়োজন


ড. মো. মনছুর আলম 

১. 

প্রকল্পটির নাম "পদ্মা ব্যারাজ"  নয়; "গঙ্গা ব্যারাজ" নামকরণ করতে হবে৷ পদ্মা ব্যারাজ রাখা ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে ভুল হবে। এতে গঙ্গা নদীতে ভাটির দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের অধিকার আমরা যেচে ছেড়ে দিচ্ছি; ভারত সেটাই চায়। মূলত পদ্মা গোয়ালন্দে এসে যমুনার সঙ্গে মিলনের আগ পর্যন্ত নদীটি 'গঙ্গা' নামে পরিচিত। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র তথা যমুনার মিলনের মাধ্যমে পদ্মা নদীর জন্ম। বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। 

২. 

প্রকল্পটি অনেক ভাটিতে পাবনা নাজিরগঞ্জ-রাজবাড়ি নির্মিত হওয়ার কারণে গঙ্গা বা পদ্মা ব্যারাজের মূল চ্যালেঞ্জ হবে পলি/ বালি ব্যবস্থাপনা। বর্ষায় গঙ্গা বিশ্বের সর্বোচ্চ পলিবহুল নদীগুলোর একটি। আবার শুকনো মৌসুমে কোটি কোটি ঘনমিটার বালি উত্তোলন হয়। বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।  খোদ ফারাক্কা ব্যারাজেরও মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে পলি ব্যবস্থাপনা। ফারাক্কার উজানে গঙ্গায় ব্যাপক ভাঙন রয়েছে। যে কারণে বিহার রাজ্য বলছে, ফারাক্কা তুলে দিতে হবে।

এছাড়া ক্রমবর্ধিষ্ণু বদ্বীপ গঠনে ভাটা পড়ে যাবে। এতে বাংলাদেশ জনবসতির ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেশগত উৎকর্ষতা বজায় রাখা আরেকটি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। 

৩. 

গঙ্গা ব্যারাজের মতো স্থাপনা বা প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্ব উজানের দেশ ভারতের সঙ্গে অবশ্যই পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন করতে হবে। ভারত বর্তমানে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে গড়িমসি করছে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সম্ভব  না হলে প্রয়োজনে বহুপক্ষীয় বা আন্তজার্তিকভাবে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।  এছাড়া সার্ক এর মাধ্যমে করা যেতে পারে। ফলস্বরূপ ভবিষ্যতে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ ও পরিচালনা সহজ হবে।

৪. 

বাংলাদেশের বিভিন্ন নদনদীতে পানি রিজার্ভের জন্য রাবার ড্যাম তৈরি করা হয়েছে। এর সুফলের চেয়ে কুফল বেশি।  বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। 

৫.  

বাংলাদেশে পদ্মা-গঙ্গার শাখা-প্রশাখা নদীগুলো বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর নাব্যতা ফিরে দিতে হবে। নদীগুলো সচল না হলে অসময়ে বন্যার কবলে পড়বে দেশ। এছাড়া ব্যাপক ফসল হানীসহ ভাঙনের কবলে পড়তে হবে। 

পেক্ষাপট :

গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নীতিগত ধারাবাহিকতা রয়েছে। ১৯৬১ সালে ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজের নির্মাণ কাজ শুরু করে। যার প্রেক্ষিতে ১৯৬২-৬৩ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম জরিপ সম্পন্ন হয়। ২০০৫ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ২০১৩ সালে প্রকল্পটি গৃহীত হলেও ২০১৫ সালে ভারতের আনুষ্ঠানিক আপত্তির মুখে ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'নকশায় ত্রুটি' দেখিয়ে নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্প মূল্যায়ন সভায় প্রকল্পটি পুনরায় টেবিলে আসে; তবে 'পদ্মা ব্যারাজ' নাম দিয়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একেনেকে পাশ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে স্থগিত হয়। ১৩ মে'২৬ এসে তারেক রহমানের সরকার এই ঐতিহাসিক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন করেন। (লেখক : পরিবেশ কর্মী ও নদী গবেষক)। 

Post a Comment

0 Comments

বৈশিষ্ট্যযুক্ত খবর

পাবনা জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত