Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বাংলা নববর্ষ উৎসবের একাল-সেকাল

  


ড. মো. মনছুর আলম

বাংলা নববর্ষ উৎসব বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান জাতীয় উৎসব। এটি বাঙালি জাতির একটি সর্বজনীন উৎসব। অতীতের ভুলক্রটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় নববর্ষ। বাঙালির কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হল বাংলা নববর্ষ। বাঙালি তাই নববর্ষকে সম্ভাষণ জনানোর জন্য মুখিয়ে থাকে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, নাচ, গান, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দোয়া অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, হালখাতা উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন, লাঠিখেলাসহ নানা রকম খেলাধুলা, নৌকা বাইচ, মেলা আয়োজনসহ বর্ষবরণের চমকপ্রদ ও জমজমাট আয়োজন ঘটে রাজধানীসহ সারাদেশে। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানমালা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক মহামিলনমেলার সৃষ্টি করে। নববর্ষের প্রথম পাদে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নববর্ষের আহ্বানকে করে তোলে নয়ন-মনোহর এবং গভীর আবেদনময়। এ শোভাযাত্রায় আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা অংশগ্রহণ করায় সকাল হতেই এক উচ্ছল জনস্রোতের সৃষ্টি হয় যা বাঙালির জাতীয় বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। 

        মোগল সম্রাট মহামতি আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। সম্রাট আকবরের অন্যতম সহচর ও সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন আমির ফতেহ উল্লাহ সিরাজি। যদিও তিনি সম্রাট আকবরের নবরতœ সভার সদস্য ছিলেন না কিন্তু সম্রাট তাঁর বিশাল পাণ্ডিত্যের জন্য তাঁকে ‘আমিন-উল-মুলক’ উপাধীতে ভূষিত করেন; তাঁকে ‘আসাদ-উদ-দৌল্লাহ’ খেতাব দেন। আমির ফতেহ উল্লাহ সিরাজির জ্ঞান, পাণ্ডিত্য, সাহস ও কর্মকুশলতার জন্য আবুল ফজল ‘আকবরনামা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “যদি দেশের সমস্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাদি বিলুপ্ত হয়ে যায়, আমির তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম”। সম্রাট আকবরের সহচর ও সার্বক্ষণিক সঙ্গী আমির ফতেহ উল্লাহ সিরাজিকে দিয়ে তিনি এই সনের প্রবর্তন করেন। 

আমরা জানি, বাংলা ভূ-খ-ে মুসলিম আমলে রাজকার্য পরিচালিত হতো হিজরি সন অনুসারে। প্রজারা শকাব্দ, গুপ্তাব্দ, জালালি, ভারত, লক্ষণ, বিক্রম প্রভৃতি সন ব্যবহার করতো। প্রচলিত এইসব সনের কোনটি ছিল সৌরসন আবার কোনটি ছিল চান্দ্রসন। এই দুই ধরনের সনের ব্যবধানে রাজকার্য পরিচালনাসহ কর আদায়ে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিত। ভারতীয় চান্দ্রসনে বারো মাসে তিথি ধরা হয় ৩৬০টি। হিজরি সনে বছর ধরা হয় ৩৫৪ দিনে। অপরদিকে সৌরসনে বছর হয় ৩৬৫ দিনে। ভারতীয় চান্দ্রসন, সৌরসন ও হিজরি সনের হিসাবে এই ভিন্নতা থাকায় হিন্দু জ্যোতিষীগণ প্রতি তিন চান্দ্র বছরে একমাস অতিরিক্ত যোগ করে হিসাব করতেন যার নাম ছিল ‘মলমাস’। সাধারণ জনগণ তথা প্রজাদের কাছে এ হিসাব ছিল অত্যন্ত জটিল। ফলে রাজকর পরিশোধে দেখা দিত অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা। সম্রাট আকবর রাজকার্য এবং রাজকরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি একক সনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভব করে আসছিলেন। তিনি আর বিলম্ব না করে তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য সভাসদদের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক অন্যতম সভাসদ পণ্ডিত আমির ফতেহ উল্লাহ সিরাজি একটি সৌরসন উপহার দেন ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ। সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহনের (০৫ নভেম্বর ১৫৫৬) ২৭ বছর ০৪ মাস ০৫ দিন পর। ফতেহ উল্লাহ অনেক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৯৯২ হিজরি ও ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দকে চান্দ্রহিসাবের স্থলে সৌর হিসাবকে ভিত্তি করে নতুন ‘তারিখ-ই-ইলাহি’ বা ফসলিসনের উদ্ভাবন করেন, যা ইতিহাস খ্যাত বাংলা সন ‘বঙ্গাব্দ’ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য যে, সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহন বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এর গণনা শুরু করা হয়। আমির ফতেহ উল্লাহ সমগ্র মোগল সাম্রাজ্যের জন্য গুরগানি সনের মাসগুলো ব্যবহার করলেও বাংলাদেশের জন্য শকাব্দ সনের মাসগুলো ব্যবহার করেন, যা বাংলা সনের একটা স্বকীয়তা এনে দেয়। শকাব্দ সনের মাসগুলো নক্ষত্র মাসের সাথে সম্পৃক্ত যা নক্ষত্রের নাম থেকে নেয়া। যেমন: বৈশাখ- বিশাখা নক্ষত্রের নাম থেকে, জ্যৈষ্ঠ- জ্যেষ্ঠা নক্ষত্রের নাম থেকে, আষাঢ়- পূর্বাষাঢ়া ও উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্রের নাম থেকে, শ্রাবণ- শ্রাবণা নক্ষত্রের নাম থেকে, ভাদ্র- পূর্ব ভাদ্রপদ ও উত্তর ভাদ্র পদ থেকে, আশ্বিন- অশ্বিনী নক্ষত্রের নাম থেকে, কার্তিক- কৃত্রিকা নক্ষত্রের নাম থেকে, পৌষ- পুষ্যা নক্ষত্রের নাম থেকে, মাঘ- মঘা নক্ষত্রের নাম থেকে, ফাল্গুন- পূর্ব ও উত্তর ফাল্গুনি নক্ষত্রের নাম থেকে এবং চৈত্র- চিত্রা নক্ষত্রের নাম থেকে নেয়া হয়েছে।

বাংলা নববর্ষ উৎসব পালনেরও শুভসূচনা করেন স¤্রাট আকবর। তিনি তাঁর সকল জমিদার, তালুকদার ও অন্যান্য ভূ-স্বামীদেরকে বাংলার কৃষকদের নিকট হতে চৈত্র মাসের শেষদিন পর্যন্ত কর তোলার দিন বেঁধে দিতেন। পরদিন অর্থৎ নববর্ষের দিন নানা আয়োজনে এবং আপ্যায়নে কৃষকদের খুশি রাখার ব্যবস্থা করারও নির্দেশনা ছিল। বাংলায় জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এভাবেই নববর্ষ পালিত হয়ে আসছিল। পরে ধীরে ধীরে সমাজ ও পরিবারের সাথে মিশে নববর্ষ অত্যন্ত আনন্দময় ও উৎসবমূখর হয়ে উঠে এবং বাংলা নববর্ষ বাঙালি জীবনের অন্যতম শুভদিন হিসেবে পালিত হতে থাকে। আস্তে আস্তে এর হাওয়া লাগে ব্যবসায়ীদের গায়ে। গ্রাম-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাদের পুরনো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুনখাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তারা নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টিমুখ করাতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীক যোগসূত্র স্থাপন করতেন।

শুরু থেকে বাংলা নববর্ষের উৎসব গ্রামীণ জনগণের নিকট ভিন্নমাত্রা যোগ করতো। তারা এইদিনে বাড়িঘর পরিস্কার রাখা, ব্যবহার্য সামগ্রী ধোয়ামোছা করা, গরু-বাছুরকে গোছল দেয়া এবং সকাল সকাল নিজেরা গোসল সেরে পূত-পবিত্র হতো। এ দিনটিতে ভালো খাওয়া, ভালো থাকা এবং ভালো পরতে পারাকে তারা ভাবিষ্যতের জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করতো। নবর্ষের দিন গ্রামীণ ঘরে ঘরে অনন্দের বন্যা বয়ে  যেত। এ দিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের আগমন ঘটত। মিষ্টি-পিঠা-পায়েসসহ নানারকম লোকজ খাবার তৈরীর ধুম পড়ে যেত। একে অপরের সাথে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় চলত। প্রিয়জনকে উপহার সামগ্রী দেওয়ার মাধ্যমেও নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় হত। বৈশাখী মেলা বর্ষবরণকে আরো সর্বজনীন করে তুলতো। মেলা আনন্দঘন ও উৎসমূখর হতো। মেলায় কৃষিজাত দ্রব্য, কারুপণ্য, কুটির, হস্ত ও মৃৎশিল্পজাত সামগ্রী, শিশুদের খেলনা, মহিলাদের গয়না ও প্রসাধনি সামগ্রী পাওয়া যেত। এছাড়া বিভিন্ন লোকজ খাদ্রসামগ্রী যেমন- চিড়া, মুড়ি, খৈ, বাতাসা, নানা প্রকারের মিষ্টি ইত্যাদি পাওয়া যেত। মেলায় বিনোদনের মধ্যে দিনব্যাপী চলতো যাত্রা, পালাগান, কবিগান, জারিগান, গম্ভীরা গান, গাজীর গানসহ বিভিন্ন ধরনের লোক সঙ্গীত। এছাড়া বাউল-মারফতি-মুর্শিদি-ভাটিয়ালি ইত্যাদি আঞ্চলিক গান পরিবেশন করা হতো। রাতভর চলতো লাইলি-মজনু, ইউসুফ-জুলেখা, কালু-গাজী, রাধা-কৃষ্ণ প্রভৃতি আখ্যান উপস্থাপন পর্ব। লাঠিখেলা, নাগরদোলা, সার্কাসসহ শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য থাকতো বায়োস্কোপ। নবষর্ষের দিন ঘুড়ি ওড়ানো, গরুর দৌড়, ঘোড় দৌড়, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, পায়রা ওড়ানো, নৌকা বাইচ, বহুরূপি সাজ প্রভৃতি এক সময় অত্যন্ত জাাঁকজমকভাবে বাঙালি পালন করতো। 

কালের বিবর্তনে নববর্ষের দিনে এসকল উৎসবের অনেকটা বিলুপ্তি ঘটেছে। সংযুক্ত হয়েছে নিত্য নতুন অনুসঙ্গ; সংযোগ ঘটেছে অনেক নতুন নতুন উৎসবের। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বিলুপ্তির সাথে সাথে পুণ্যাহ উৎসবের বিলুপ্তি ঘটে। গ্রামীণ মেলা আধুনিকতার রং মেখে এখন শহুরে মেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। মেলায় যাত্রা, পালাগান, পুঁথিপাঠ, সার্কাসের পরিবর্তে এসেছে ব্যান্ড সংগীত, সিনেমা, আধুনিক নৃত্য, পথ নাটক, ও কবিতা আবৃত্তি। চিড়া, মুড়ি, খৈ, বাতাসার পরিবর্তে এসেছে পান্তা ইলিশ, পোলাও বিরিয়ানি, আইসক্রিম ও নানা প্রকারের ফার্স্ট ফুড জাতীয় খাবার। ডিজিটাল যুগে যেখানে ঘোড়া মেলানোই দায় সেখানে আবার ঘোড়ার দৌড়। তবে অনেক কষ্ট করে চটলাবাসী জব্বারের বলিখেলা এবং রাজশাহীবাসী গাম্ভীরা গান ধরে রাখতে পেরেছে। এটাও আবার কত দিন টেকে সময়ই বলে দেবে।

আশার কথা হলো, বাংলা নববর্ষের গায়ে নগর-সংস্কৃতি বা ডিজিটালের ছোঁয়া লাগলেও বাঙালি তার চিরায়ত উৎসবপ্রবণতা থেকে একটুও দূরে সরে যায় নি; বরং উৎসবে এনেছে ভিন্নমাত্রা লেগেছে নানা রং ও রূপের ছোঁয়া, খাবার এবং আপ্যায়নে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বর্তমান নগরজীবনে অভ্যস্ত নগরবাসী গ্রামীণ লোকোজ সংস্কৃতি ও নগর-সংস্কৃতির ব্লেন্ডিং-এ আনন্দঘন পরিবেশে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে নববর্ষ উদযাপন করছে এটাও বা কম কিসের। বছরের প্রথম দিনকে স্বাগত জানানোর জন্য অন্তত পনেরো দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি চলে, চলে কেনাকাটার ধুমধাম। বাংলাদেশ সরকার বাংলা নববর্ষকে জাতীয় উৎসব ঘোষণা করায় এবং চাকুরিজীবীদের জন্য বোনাসের ব্যবস্থা করার ফলে নববর্ষ উৎসব এক ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। প্রতিটি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত তাদের নিজস্ব আঙ্গিকে বর্ষবরণ উৎসব পালন করছে। 

নববর্ষের দিন সাধারণত সকল শ্রেণির এবং সকল বয়সের মানুষ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাক পরিধান করে। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে তরুণিরা লালপেরে সাদা শাড়ি, হাতে রেশমি চুড়ি, খোপায় ফুল, গলায় ফুলের মালা এবং কপালে টিপ পরে; আর ছেলেরা পরে বাহারী সব পাজামা-পাঞ্জাবি, কোটি, শেরওয়ানী। এদিন সকাল বেলা ইলিশ-পান্তা, আলুভর্তা-পান্তা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়; সমালোচকরা একে ফ্যাসান বললেও এ ধারা অব্যহত থাকবে। কারণ ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ আর ইলিশ মাছতো বাঙালির সভ্যতা-সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে। তাই লোকজ বর্ষবরণ প্রথাগুলোর অন্তত দু’চারটির অনুসরণের মাধ্যমে হলেও বাঙালি তার ঐতিহ্যকে সম্মান দেখাচ্ছে। 

ঢাকার চারুকলা থেকে পয়লা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বের করা হয়। পয়লা বৈশাখের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ইতোমধ্যে ইউনোস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করেছে। তাই বাংলা নববর্ষের উৎসবের ব্যাপ্তি এখন শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, পালনেও নেই সীমাবদ্ধতা। অবশ্য বর্তমান সরকার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দিয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন বাংলা নববর্ষ এখন শুধু বাঙালিরাই পালন করছে না বিদেশিরাও দলে দলে নববর্ষের উৎসবে শামিল হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ বিশ্ব সংস্কৃতির মেলবন্ধেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, একথা এখন নির্দিধায় বলা যায়। এছাড়া বিশ্ববাঙালি অর্থাৎ প্রবাসী বাঙালিতো এখন অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে বাংলা নববর্ষ পালন করছে। তবে ঢাকার শোভাযাত্রা সারাদেশ থেকে বিশেষ করে জেলা-উপজেলা থেকে ভিন্নতর। এই  শোভাযাত্রায় স্থান পায় সাধারণত মনসা, লক্ষ্মী পেঁচা, বাদুর, হাতি, বাঘ, বানর, হনুমান, সিম্পাঞ্জি, রাক্ষস-খোক্ষসসহ বিচিত্র সব জন্তু জানোয়ারের মুখোস ব্যবহার করা হয়; যা আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় না।

মিশরীয়রা গর্ব করে তাদের দশ হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাসের জন্য, ইউরোপীয়রা গর্ব করে তাদের পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাস আছে, চীনারা গর্ব করে তাদেরও পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাস আছে। তেমনি আমাদেরও গর্বের বৃহৎ বৃহৎ জায়গা আছে, আছে চার হাজার বছরের প্রাচীন বঙ্গ সভ্যতা-সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ও বর্ণাঢ্য ইতিহাস। আমাদের রয়েছে মহান ত্যাগ-সংগ্রাম-আত্মত্যাগের ইতিহাস; যা পৃথিবীর দু’একটি জাতি বা রাষ্ট্র ব্যতীত আর কারো নেই। আমাদের রয়েছে বিশাল জলরাশি, সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন, রয়েছে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ, নিজস্ব ভাষা-সন-সংস্কৃতিসহ রয়েছে বিশাল বিশাল অর্জন। আমাদের ইহিতাস-ঐতিহ্যের ভা-ার সুসমৃদ্ধ। এই অর্জন, ইহিতাস-ঐতিহ্য ও সম্পদগুলো নিয়ে আমরা উৎসব করবো, অন্যকে উৎসাহিত করবো এটাই স্বাভাবিক। তবে উৎসবে যেন বিজাতীয়-বিকৃত কিছু না ঢুকে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আসুন আমরা নতুন বছর অতীতের সব ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপন করি, উৎসব-অনন্দে মেতে উঠি। উৎসবপ্রিয় বাঙালির ‘নববর্ষ উৎসবে’ লাগুক নতুনমাত্রা। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বাঙালির জীবনে নিয়ে আসুক সুন্দর সোনালী বার্তা এই প্রত্যাশা। [ লেখক :  প্রাবন্ধিক ও নদী গবেষক, পাবনা ]


                           

 


Post a Comment

0 Comments

বৈশিষ্ট্যযুক্ত খবর

বগুড়ায় গাক চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত