ওয়ান মিনিট টিভি ডেস্ক :
'বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’ সাঁথিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশকৃত বৈষম্যহীন নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারির এক দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারিগণ ছাড়াও সাঁথিয়ার স্কুল কলেজ মাদরাসার শত শত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ অংশ নেয়।
কেন্দ্র ঘোষিত তিন দিন ব্যাপী সরকারি কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালনের আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ছিল দ্বিতীয় দিন। সকাল ৯ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের সামনে চলে অবস্থান কর্মসূচি, আলোচনা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন। বিক্ষোভ মিছিলটি সাঁথিয়া শহর প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা চত্বরে অবস্থান নেন। সূত্র মতে, তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানা যায়। মূলত সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিল; সে ধারাবাহিকতায় আজ চলছে সাঁথিয়ায় এই আন্দোলন।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই দাবি আদায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সাঁথিয়া শাখার সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আজমুল হক।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মাদরাসা শিক্ষকগণের পক্ষে আদার্শ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ধুলাউড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন, বোয়ালমারী কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সহকারী অধ্যাপক ও সিনিয়র সাংবাদিক জয়নুল আবদিন রানা, কলেজ শিক্ষকগণের পক্ষ থেকে বাকশিশ এর সাঁথিয়া উপজেলা আহ্বায়ক জোড়গাছা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন উল্লাস, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ পাবনার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঁথিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মনছুর আলম, কারিগরি শিক্ষকগণের পক্ষে জোড়গাছা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই, , স্কুল শিক্ষকগণের পক্ষে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক নাড়িয়াগোদাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান, সাঁথিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, সাঁথিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিবর রহমানসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, পৌরসভার প্রতিনিধি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধি।
বক্তাগণ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল অন্তর্বর্তী সরকার হলেও এই সরকার আমাদের সাথে বেশি বৈষম্য করছেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশকৃত পে-স্কেল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি থেকে ধীরে ধীরে কার্যকর করা হবে বলে ঘোষণা করা হলো। কিন্তু হঠাৎ কোন অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে গেল আমরা তা বোধগম্য নয়। আমরা আশায় বুক বেধেছিলাম; কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। আপনারা জাতির সাথে তামাশা করছেন, যদি আগামী কালের মধ্যে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হয় তাহলে আমরা এর চেয়ে আরো কঠোর এবং বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
0 Comments