এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা :
জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত পাবনা ৫ (সদর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হওয়া অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে চান স্থানীয় বিএনপি ও পাবনার নাগরিক সমাজ। সততার সঙ্গে দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে মাধ্যমে তিনি সবার আস্থাভাজন হতে সক্ষম হয়েছেন।
১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনের এমপি নির্বাচিত হন জামায়াতের বর্ষিয়ান নেতা মাওলানা আব্দুস সুবহান। তার আগে পাকিস্তানে সময় তিনি এমএন ছিলেন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগ থেকে ও ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এমপি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল। দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিএনপি পাবনা সদর আসনে এমপি পেল।
অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জাসদের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও পরে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশের কমিউনিষ্টলীগ এবং সর্বশেষ বিএনপির রাজনীতি করেন। তিনি দীর্ঘীদন বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ছিলেন। ২০০৪ সালে বিএনপির সময় তাকে বিআইডাব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। ঐ সময় সারাজীবনের লোকসানী প্রতিষ্ঠান বিআইডাব্লিউটিসিকে তিনি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।
তিনি তাদের পরিবারের সাড়ে ৪‘শ বিঘা সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করেন। হাই স্কুল, কলেজসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। শ্রমিক শ্রেণির জন্য শিমুল বিশ্বাস নিবেদিত প্রাণ। তিনি পাবনা সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি অনুদানের টাকায় ১১০ টি মসজিদ নির্মাণ করেন। এছাড়া ১৩টি মন্দির, ৪টি চার্চের সংস্কার করেন। এছাড়া টিউবওয়েলসহ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ নানা জনহিতকর কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছড়া সকল সংস্থার শ্রমিক ফ্রন্টে তার রয়েছে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা। বিগত সব সময় রাজনীতিতে ব্যাপক ত্যাগ স্বীকার করেন। ২০০১ সালে তাকে চারদলীয় জোটের জন্য মনোনীত করা হলেও তিনি তা ত্যাগ তরে জামায়াতের প্রবীন নেতা মাওলানা সুবহানকে দেওয়ার জন্য বেগম খালেদা জিয়াপকে অনুরোধ করেন। পাবনার ৫টি আসনের মধ্যে জামায়াত ৩টিতে এবং ২টিতে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। এই প্রথম পাবনা সদর থেকে কোন যোগ্য নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রুপ উপগ্রুপে বিভক্ত পাবনা জেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে এক কাতারে নিয়ে আসেন।
পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, পাবনা থেকে শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রী বানানো হলে এই জেলায় দলের উপকার ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।
পাবনা নাগরিক কমিটির কো চেয়ারম্যান পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রী বালালে পাবনার মানুষকে সম্মান দেওয়া হবে।
পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সভাপতি ফোরকান রেজা বিশ্বাস বাদশা বলেন, এতো বড়ো মাপের সর্বজন গ্রহণযোগ্য মানুষ যিনি সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে চলতে পারেন তাকে সম্মান দেওয়া দলের দায়িত্ব।
0 Comments