জুবায়ের খান প্রিন্স, পাবনা :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনকে জড়িয়ে প্রকাশিত একটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ভাঙ্গুড়া মিডিয়া কর্নার হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাসিনা হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে “কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানেন না বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই সংবাদ তার ব্যক্তিগত সম্মান, পেশাগত সুনাম এবং দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা মাত্র।
তিনি বলেন, ২০০২ সালে যথাযথ ও বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি উক্ত বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সে সময় তার স্বামী বা কোনো আত্মীয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। সংবাদে তার নিয়োগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ইতিহাসবিরোধী ও যাচাইহীন।
সংবাদে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, ক্লাস না নেওয়া এবং কম্পিউটার বিষয়ে অদক্ষতার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের হাজিরা রেজিস্টার, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নথি, প্রধান শিক্ষক ও সহকর্মীদের বক্তব্যেই এসব অভিযোগের অসারতা প্রমাণিত হয়। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকাই তার কর্মদক্ষতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও পূর্ব বিরোধের জেরে এবং পূর্বে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে স্কুলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। যা দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তিনি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপসাংবাদিকতা বন্ধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আলী বলেন, হাসিনা হোসেন ২০০২ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন, সকল প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এবং একজন দায়িত্বশীল ও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক লায়লা আলফাতুন নাহার, সখিনা খাতুন, শাহিন ইসলাম, আনজমান আরা, জাহাঙ্গীর আলম, ইকরাম হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, নওসাদ ইসলাম, কে এম তারিকুজ্জামানসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পাবনা জেলা ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা।
0 Comments