বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা :
পাবনার সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায়, দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুবলিয়া পুরাতন পাড়া হযরত আবু বকর (রা.) জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠ প্রাঙ্গণে এ কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দুবলিয়া, ফারাতপুর, চরপাড়া, কামারডাঙ্গা, পাটোয়া, শ্রীকোল, লক্ষিকোল ও দাসপাড়া গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক দরিদ্র, বিধবা ও শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক পরিচালক, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পাবনা ব্যুরো প্রধান এবং টিএমএসএস-এর উপদেষ্টা মো. আ. খালেক খান পিভিএম (সেবা)-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক ও ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মো. লিটন আনাম লিটু, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রাক্তন শিক্ষক মো. হযরত আলী রতন, শিক্ষক ও সমাজসেবক আলাউদ্দিন এবং মো. বিল্লাল প্রামাণিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধার নামাঙ্কিত এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যে মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবানদের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
বিশেষ অতিথি মো. লিটন আনাম লিটু বলেন, “সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা সবাই মিলে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেছি। ধীরে ধীরে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের দাতা সদস্য মো. আব্দুস ছামাদ খান, মো. শিমুল খান বাবু, মো. সাগর আলী খান, মো. শহীদ খান, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আলতাব হোসেন, পরিচালক মো. ডামু খান, ফাউন্ডেশনের পরিচালক রাসেল আলী খান, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য মো. রানু খান ও মো. মোকসেদ আলী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আ. খালেক খান বলেন, “আগামীতে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নয়ন সহায়তা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সমাজের যে কোনো দানশীল ও সহৃদয় ব্যক্তি আমাদের এই মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পরিষদে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আ. লতিফ, শিক্ষক মো. মানিকুজ্জামান, সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আসক ফাউন্ডেশনের এস এম শফিকুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। তাঁদের দিকনির্দেশনায় ফাউন্ডেশনের সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, এনজিওকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যারা এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
0 Comments