আজকের তারিখ · One Minute TV
One Minute TV সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট
One Minute TV
ব্রেকিং নিউজ
One Minute TV — গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, সর্বশেষ আপডেট ও দেশ-বিদেশের খবর জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন
ADVERTISEMENT
Featured news
সর্বশেষ

One Minute TV-তে প্রকাশিত সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

বিস্তারিত খবর ও আপডেট জানতে শিরোনামে ক্লিক করুন

News জাতীয়

দেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও সাম্প্রতিক আপডেট

One Minute TV

World আন্তর্জাতিক

বিশ্বের নানা প্রান্তের আলোচিত সংবাদ

One Minute TV

Sports খেলাধুলা

খেলার মাঠের সর্বশেষ খবর ও আপডেট

One Minute TV

Entertainment বিনোদন

বিনোদন জগতের নতুন খবর

One Minute TV

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর দেখুন →

পাঁচশো বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে আছে পুঠিয়া রাজবাড়ি



ওয়ান মিনিট টিভি ডেস্ক: 

বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পুঠিয়া রাজবাড়ি। এটি রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় অবস্থিত। পুঠিয়া রাজবাড়ির ইতিহাস প্রায় পাঁচশো বছরের ইতিহাস। ১৫৫০ সালে বৎসাচার্যের পুত্র পিতাম্বর রাজশাহী জেলার পুঠিয়া রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন। মোগল আমলে বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন রাজবাড়ি ছিলো এটিই। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে তার কাছ থেকে পীতাম্বরের উত্তরপুরুষ নীলাম্বর 'রাজা' উপাধি পান। তখন থেকেই এটি পরিচিত হয় 'পুঠিয়া রাজবাড়ি' নামে।

১৭৪৪ সালে জমিদারি ভাগ হলে জমিদারের বড়ছেলে সাড়ে পাঁচআনা ও অন্য তিন ছেলে সাড়ে তিনআনা করে পান। তখন থেকে এর নাম হয় 'পাঁচআনি রাজবাড়ি।' এই রাজবাড়ির রয়েছে সুপ্রাচীন ইতিহাস। ইতিহাস থেকে জানা যায়, পুঠিয়া রাজবাড়ী ছিলো পুঠিয়ার মহারানী হেমন্তকুমারী দেবীর রাজপ্রাসাদ। বর্তমান রাজবাড়ি বলতে মানুষ যা দেখতে আসে, তা এই  হেমন্ত কুমারী দেবীই নির্মাণ করেন ১৮৯৫ সালে। আয়তাকার দ্বিতল এই রাজবাড়িটি নির্মিত হয় ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে।

হেমন্তকুমারীর স্বামী পরেশ নারায়ণ ছিলেন পাঁচআনির রাজ পরগনার রাজা। কলেরা মহামারির হাত থেকে প্রজাদের বাঁচানোর জন্য 'ঢোপকল' নির্মাণ করে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন হেমন্তকুমারী। তিনি তার শাশুড়ি মহারানি শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে এই রাজপ্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও কালের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে এর অপূর্ব শৈল্পিক স্থাপনাগুলো।

 রাজবাড়িটিতে কক্ষ আছে অনেকগুলো। প্রধান প্রবেশপথটির দরজার ওপরে আছে সিংহের প্রতিকৃতি। তাই এটি পরিচিত 'সিংহ দুয়ার' নামে। এটি উত্তরদিকে অবস্থিত। রাজকার্য পরিচালিত হতো এখান থেকেই। এখানে ছিল একটি বন্দীশালাও৷

শিবমন্দিরটির ভেতরে থাকা শিবলিঙ্গ, মন্দিরের বারান্দা ও মন্দিরের বাইরের দেয়ালে নকশা। রাজবাড়ির চারদিকে আছে পরিখা হিসেবে খননকৃত জলাশয়৷ নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। পরিখাগুলো বর্তমানে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন- শিবসাগর বা শিব সরোবর, গোবিন্দ সরোবর, গোপালচৌকি, বেকিচৌকি ও মরাচৌকি। রাজবাড়ির মাঝামাঝি রয়েছে শ্যামসাগর নামে ছয় একর আয়তনের এক বিশাল দিঘী। এখানে স্থলভাগের পরিমাণ প্রায় ২৬ একর।

পুঠিয়া রাজবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বমোট ১৪টি মন্দির পূর্ণঅবয়ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর ভেতর দুটি পঞ্চরত্ন, একটি দোচালা, একটি মিশ্ররীতির ত্রিমন্দির, একটি আটকোণা একরত্ন, দুটি সমতল ছাদের ও বাকিগুলো পিরামিড আকৃতির চৌচালা ছাদবিশিষ্ট। মন্দিরগুলোর গায়ে রয়েছে পোড়ামাটির টেরাকোটার কাজ।

রাজবাড়ি ছাড়াও পুঠিয়ার রাজাদের স্মৃতি বিজড়িত বড় গোবিন্দ মন্দির, ছোট গোবিন্দ মন্দির, বড় শিবমন্দির, ছোট শিবমন্দির, বড় আহ্নিক মন্দির, ছোট আহ্নিক মন্দির, জগদ্ধাত্রী মন্দির, দোল মন্দির, রথ মন্দির, গোপাল মন্দির, সালামের মঠ, খিতিশচন্দ্রের মঠ, কেষ্ট খেপার মঠ, হাওয়া খানাসহ ১৫টি প্রাচীন স্থাপনা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

শ্যামসাগরের ১০০ মিটার পশ্চিমে পাশাপাশি তিনটি মন্দির আছে। এর ভেতর দক্ষিণদিকে অবস্থিত মন্দিরটি 'চারআনি বড় আহ্নিক' নামে পরিচিত। মন্দিরটি তিনকক্ষ বিশিষ্ট, প্রবেশপথ পূর্বদিকে অবস্থিত।

এছাড়া শ্যামসাগরের দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে বড় শিবমন্দির। এটি পুঠিয়া বাজার থেকে হাতের বামে পড়ে। মন্দিরটির প্রধান প্রবেশপথ ৪ মিটার উঁচু মঞ্চের ওপর নির্মিত ও দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এখানে সিঁড়ি আছে। মন্দিরের কেন্দ্রীয় কক্ষে বৃহৎ আকারের শিবলিঙ্গ ও গৌরীপট্ট রয়েছে। ১৮২৩ সালে রাণি ভুবনময়ী দেবীর উদ্যোগে এটি নির্মিত হয়, ফলে একে 'ভুবনেশ্বর মন্দির'ও বলা হয়।

এছাড়া, রাজবাড়ির সামনের দিকের মাঠের উভয় পাশে বর্গাকার চারতলা বিশিষ্ট মন্দির আছে। প্রত্যেক তলের চারদিকে আছে প্রশস্ত টানা বারান্দা। এটি হেমন্তকুমারী দেবীর উদ্যোগে নির্মিত 'দোল মন্দির।'

জমিদার বাড়ির অঙ্গনে অবস্থিত রয়েছে পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির। উঁচু বেদীর ওপর প্রতিষ্ঠিত মন্দিরটির গায়ে পোড়ামাটির অসংখ্য ফলক চিত্র রয়েছে। রামায়ণ, মহাভারত ও পৌরাণিক কাহিনীর রূপায়ন রয়েছে এতে। যতদূর জানা যায়, এটি নির্মাণ করিয়েছিলেন প্রেম নারায়ণ রায়৷

২০২১ সালে রাজবাড়িটিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করেছে। মাত্র ৩০ টাকা খরচ করলেই পুরো রাজবাড়ি ও জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা। শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে রাখা হয় ১৫ টাকা।

 রাজ প্রাসাদের নিচতলায় ১২টি ও ওপরের তলায় ১৫টি কক্ষ আছে। কক্ষগুলো রাজাদের দাপ্তরিক কাজ ও বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হতো। দ্বিতীয় তলায় ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতির কারুকাজখচিত জোড়া থাম ও ঝুলবারান্দা আছে। বারান্দাসহ নিচের একটি এবং ওপরের তিনটি কক্ষ জাদুঘরের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নিচের কক্ষটিতে রাজাদের ব্যবহৃত আসবাব প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। তাই এখন বিনা বাধায়, নির্দ্বিধায় দেখে আসতে পারবেন রাজবংশের ঐতিহাসিক সব স্মারক, হতে পারবেন ইতিহাসের সাক্ষী। রাজপরিবারের নিত্য ব্যবহার্য জিনিস থেকে শুরু করে যুদ্ধাস্ত্র, কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাওয়া নানান জিনিসও দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা৷

রাজবাড়িটিতে রয়েছে এমন আভিজাত্য মোড়ানো ও পরিপাটি দর্শনীয় সব উপাদান। এই ঐতিহাসিক ইমারত দেখতে এখন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পূজা-পার্বণ এবং সরকারি ছুটির দিনে থাকে তুলনামূলক বেশি ভিড়।

পুঠিয়া রাজবাড়ী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন। রাজশাহী শহর থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার, আর নাটোর থেকে ১৮ কিলোমিটার। রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দক্ষিণেই এর অবস্থান।

রাজশাহী অথবা নাটোরগামী যেকোনো বাসে উঠে পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে সহজেই আটোতে বা রিকশায় এখানে চলে আসা যায়।


বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুণ

oneminutetv24@gmail.com

Editor

Dr. Mansur Alam

বৈশিষ্ট্যযুক্ত খবর

আইপিইউ সম্মেলনে অংশ নিতে তানজানিয়ায় শিমুল বিশ্বাস এমপি

  খালেদ আহমেদ : আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে অংশ নিতে তানজানিয়ায় পৌঁছেছেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, শ্রম ও কর্মস...

Contact Form

Name

Email *

Message *

Translate

Subscribe Us

Ad Space

Responsive Advertisement
One Minute TV

Header Ads Widget

Responsive Advertisement
↑