Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কবি জাহানারা আরজু ইন্তেকাল করেছেন


ওয়ান মিনিট টিভি ডেস্ক : 

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। 

সোমবার (২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

জাহানারা আরজু ১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জের জাবরা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা আফিল উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী ও মা খোদেজা খাতুন। স্বামী বিচারপতি নুরুল ইসলাম ছিলেন সাবেক উপরাষ্ট্রপতি। তিনি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেন। বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদকসহ মোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

জাহানারা আরজু একজন প্রথিতযশা কবি। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক। জাহানারা আরজুর প্রথম কবিতা ১৯৪৫ সালে অভিভক্ত বাংলায় ‘আজাদ’ পত্রিকার মুকুলের মাহফিলে প্রকাশিত হয়। এরপর নিয়মিত তার লেখা স্থান পেতে থাকে সওগাত, মোহাম্মদী, বেগম, মিল্লাত, ইত্তেহাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি মাটি, মানুষ, সমাজ ও পৃথিবীর নানা বিষয়কে তুলে ধরেছেন তার সাহিত্যকর্মে। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- নীলস্বপ্ন, রৌদ্র ঝরা গান, সবুজ সবুজ অবুঝ মন, আমার শব্দে আজন্ম আমি, ক্রন্দসী আত্মজা, বাদল মেঘে মাদল বাজে প্রভৃতি।

অতি অল্প বয়সেই তার সাহিত্যচর্চার সূচনা—অষ্টম শ্রেণিতে থাকতেই তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ‘অঞ্জলি মোর গুঞ্জরণী’ প্রকাশ করেন। আশ্চর্যজনকভাবে এর আশীর্বচন লেখেন অবিভক্ত বাংলার কিংবদন্তি দুই ব্যক্তিত্ব—শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ও মহাকবি কায়কোবাদ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৪৯ সাল থেকে কবি সুফিয়া কামাল ও জাহানারা আরজু যৌথভাবে এই পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যা নারী জাগরণ ও সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে তিনি রাইটার্স গিল্ডের পত্রিকা ‘পরিক্রম’-এ (১৯৬৫) যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। পাশাপাশি ছিলেন টিবি অ্যাসোসিয়েশনের পাক্ষিক ‘হেলথ বুলেটিন’-এর প্রধান সম্পাদক এবং ‘সেতুবন্ধন’ সাহিত্যপত্রিকার সম্পাদনাতেও যুক্ত ছিলেন

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো–  নীলস্বপ্ন (১৯৬২), রৌদ্র ঝরা গান (১৯৬৪), সবুজ সবুজ অবুঝ মন, আমার শব্দে আজন্ম আমি, ক্রন্দসী আত্মজা, বাদল মেঘে মাদল বাজে, শোণিতাক্ত আখর (একুশে ফেব্রুয়ারি বিষয়ক স্বনির্বাচিত কবিতা, ১৯৭১)

জাহানারা আরজুর বড়ো ছেলে মো. আশফাকুল ইসলাম, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ছোটো ছেলে প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিনুল ইসলাম, বড়ো মেয়ে অধ্যাপিকা মেরিনা জামান, ছোটো মেয়ে প্রয়াত লুবনা জাহান, নাতি-পুতিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, অনুরাগী এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে এই প্রতিথযশা কবি চিরবিদায় নিলেন। 

Post a Comment

0 Comments

বৈশিষ্ট্যযুক্ত খবর

পাবনায় সাংবাদিকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি- স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট