Header Ads Widget

Responsive Advertisement

পাবনায় আহমদ ছফার ৮৩তম জন্মদিন স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

ওয়ান মিনিট টিভি ডেস্ক :  

পাবনা আহমদ ছফা রিডিং সোসাইটির উদ্যোগে কবি, উপন্যাসিক, চিন্তাবিদ, গণবুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ কমপ্লেক্সের মেমোরিয়াল ক্লাব বুকসে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আকতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখন, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক আখতারুজ্জামান আখতার এবং পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, লেখক ও নদী গবেষক ড. মো. মনছুর আলম এবং আহমদ ছাফার "যদ্যপি আমার গুরু" বইয়ের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক প্রাবন্ধিক এবিএম মাহফুজুর রহমান।

আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাজহারুল ইসলাম, লেখক ও  গবেষক জিশু জেমস এবং কবি গল্পকার কথা হাসনাত। 

সেমিনারে বক্তারা বলেন, আহমদ ছফার লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণ প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর রচিত প্রতিটি বই ভাষিক সৌকর্য, বিষয়বস্তু ও রচনাশৈলীর অভিনবত্বে অনন্য। মানসিক, সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুষঙ্গসহ ছফার চরিত্র সৃষ্টির তথা কাহিনিকথনের পারঙ্গমতা অসামান্য। তার রচনাকর্ম যেমন সমসাময়িক অনেক লেখক, গবেষক, শিল্পী, চলচ্চিত্রকার ও বুদ্ধিজীবীকে অনুপ্রাণিত করেছে তেমনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রতিবাদী ও যুক্তিনির্ভর হতে সাহায্য করবে।

তারা আরও বলেন, আহমদ ছফার প্রথাবিরোধিতা, স্পষ্টবাদিতা, স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সমকালীন কিছু লেখক ও বুদ্ধিজীবীমহল তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিলেন। অনেকে না বুঝে অথবা ব্যক্তিগত আক্রশের কারণে তাঁকে বোহেমিয়ান, উদ্ধত, প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাহীন ও বিতর্কপ্রবণ বলে অভিহিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন, যা কাম্য নয়।

সেমিনারে পাবনার প্রায় অর্ধশতাধিক কবি-সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালন ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন কবি ও গবেষক সালেক শিবলু।

উল্লেখ্য, আহমদ ছফা তাঁর প্রথাবিরোধী, প্রতিষ্ঠানবিরোধীতার কারণে ১৯৭৫ সালে লেখক শিবির পুরস্কার ও ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমির সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পরে ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সাহিত্যে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন। 

বাংলাদেশের এই প্রথিতযশা লেখক, কবি, চিন্তক ৩০ জুন ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৮ জুলাই ২০০১ সালে ইন্তেকাল করেন।

সভায় আগামী ২৮ জুলাই আহমদ ছফার মৃত্যু দিবসে তাঁর অপর একটি বই নিয়ে সেমিনার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Post a Comment

0 Comments

বৈশিষ্ট্যযুক্ত খবর

অস্তিত্ব সংকটে পাবনার ঐতিহ্যবাহী আত্রাই নদী লোয়ার